
বালিয়াকান্দি ঃ রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের কালীর মোড় সংলগ্ন ভাটি খালের উপর ২০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৯৯১-৯২ সালে নির্মিত হয় একটি ব্রীজ। বর্তমানে এই ব্রীজটি জরাজীর্ণ অব¯’ায় রয়েছে। ভেঙ্গে পড়ার আতঙ্ক নিয়ে এই ব্রীজ পারাপার হ”েছ নসিমন কিংবা ভারী ভ্যানগাড়ি।ব্রীজের রেলিং এবং সংযোগ সড়কে গর্ত থাকায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুঘর্টনা। জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঢোলজানী বাজার থেকে কিছুদূরে কালীর মোড় সংযোগ সড়ক থেকে ভাটি খালের উপর নির্মিত ব্রীজটিতে উঠার আগেই সংযোগ সড়কের মাঝখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের মাঝে ছোট ছোট বাঁশ পুঁতে দেওয়া আছে। বাঁশের মাথায় লাল কাপড় বেঁধে নিশানা দেওয়া হয়েছে। ব্রীজের ২ পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। অধিকাংশ জায়গাতেই সিমেন্ট খসে পড়েছে। রডগুলো বের হয়ে আছে। ব্রীজের উপর গাড়ি উঠলেই ঝাঁকুনি দেয়। ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও জঙ্গল, নতুন ঘুরঘুরিয়া, অভয়নগর, বড় জঙ্গল, শশাপুর, বন্যতৈল, পোটরা, অলংকারপুর, গঙ্গাসাগর, চাপড়ী, বহলাকুন্ডু, মহারাজপুর, ঢোলজানি, পুরান ঘুরঘুরিয়া, সাধুখালী, আকশুকনা, ধর্মতলা, পারুলিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের কৃষি ফসল ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ব্রীজটি বর্তমানে চরম ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঝুকিপূর্ণ হলেও ২০টি গ্রামের মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্রীজটি দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রীজটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় উপারের কোনো মানুষ কৃষি পণ্য কিংবা ভারী কোনো যানবাহন নিয়ে সরাসরি উপজেলা সদরে আসতে পারছেন না। উপজেলা সদরে আসতে হলে ৯ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে আসতে হ”েছ।
¯’ানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের ভাটিখালের উপর পুরান ঘুরঘুরিয়া কালির মোড়ে ব্রীজটি ১৯৯১-৯২ সালে নির্মাণ করা হয়। ব্রীজটি উদ্বোধন করেন রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত ডা. আসজাদ হোসেন। দীর্ঘদিন যাবত ব্রীজটি দিয়ে যানবাহন ও ২০ গ্রামের মানুষ চলাচল করলেও এখন ঝুকিপূর্ণ হয়েছে।
ব্রীজ সংলগ্ন দোকানিরা জানান, ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। ব্রীজের উপর দিয়ে চলাফেরা করতে ভয় হয়। ব্রীজে উঠার সংযোগ সড়কে গর্ত থাকায় রাতে ভয় আরও বেড়ে যায়, মনে হয় গর্তের মধ্যে পড়ে গেলাম। প্রায়ই দেখা যায়, যানবাহন গর্তে আটকে থাকে। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তারা।
একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, উপজেলা সদরে কৃষি পণ্য নিয়ে বিক্রি করা এখন দায় হয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে যানবাহনে সাজিয়ে নিয়ে এলেও ব্রীজের সংযোগ সড়কেই নামিয়ে ফেলতে হয়। একটি গাড়ির পণ্য একাধিক বার নামানোর পর আবার পুনরায় সাজিয়ে সেটি বাজারে নিয়ে আসতে হয়। এতে করে যানবাহন ব্যয় বেড়ে গেছে। তাছাড়াও মাঠ থেকে ফসলগুলো অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে ব্রিজের নিচে খাল দিয়ে পার করতে হয়।
জঙ্গল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ব্রীজ সম্পর্কে বলেন, বর্তমানে ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কালীর মোড় থেকে ব্রিজ সম্মুখে যে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে সেটি দ্রæত ভরাট করা প্রয়োজন। আমি ব্রিজটি সম্পর্কে ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে কথা বলেছি। ব্রিজটির সমস্যা দ্রæত সমাধান না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করেন তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী সজল কুমার দত্ত বলেন, কালীর মোড়ে ব্রিজটির অব¯’া খুবই খারাপ। ইতোমধ্যে ব্রিজটিতে পরিদর্শন করা হয়েছে। ব্রীজটি নতুন করে করার লক্ষ্যে মাদারীপুর-শরিয়পুর-রাজবাড়ী জেলা উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিজটি নতুন করে মেরামত হবে।
